এতিম মেয়ের বাস্তব রোমান

এতিম মেয়ের বাস্তব রোমান্টিক ভালবাসার গল্প কাহিনী। এতিম মেয়েকে বিয়ে করার অপরাধে ঘর থেকে বের করে দিলো আমায়।সুমিতার বাব নেই সুমিতারা অনেক গরির অনেক কষ্টে তাদের সংসার চলে সুমিতার মা অন্যের বাসায় কাজ করে সিমিত টাকা উপার্জন করে সুমিতাদের সংসার চালাই .যে কোন কারনে হোক সুমিতার সাথে আমার মনের মিলন হয়।

সুমিতার সাথে প্রায় চার বছর প্রেমের সম্পর্কের পর আমি সুমিতাকে বিয়ে করি।সুমিতাকে নিয়ে বাসায় যাওয়ায় মা-বাবা আমাকে ছেলে বলতে অস্বীকার করলো। এতিম না হয়ে কোন টাকাওয়ালার মেয়েকে বিয়ে করলে মেনে নিতো ।

আমি চোঁখের পানি ছেড়ে সুমিতার হাতটা শক্ত করে ধরে বের হয়ে চলে আসি। তখন সুমিতা আমাকে বললো সে চলে যাবে তাও যেনো আমি আমার মা-বারার কাছে থাকি। একজন সন্তানের মা-বাবা না থাকলে কষ্ট হয় কতটা সেটা সুমিতা জানে তাই তখন এ কথা বলে।সুমিতাকে বিয়ে করাটাও ছিলো সূর্যের আলোয় ভরা দুপুরে বৃষ্টি আসার মতোই।

এতিম মেয়ের বাস্তব রোমান্টিক ভালবাসার গল্প কাহিনী।

আমি তখন ভার্সিটির BSC IN TEXTILE ENGINEERING ফাইনাল দেওয়ার কিছুদিন আগের সময়। আমি একদিন মন খারাপ করে বিকালে রাস্তার পাশ দিয়ে হাটঁছি। বাসা থেকে প্রায় ১`1/2 কি.মি দূরে। হাটঁতে হাটঁতে একটা বাসস্টপের কাছাকাছি এসে পৌছালাম ।সেই যাত্রী ছাউনিতে বসে আছে একজন রমনী সুন্দরী । যা একবারেই পরিবেশের বিপরীত এই ব্যাস্ত শহরে কমই দেখা যায়। মেয়েটার পুরো শরীর ঢাকা কালো বোরকায়। হাত পায়ে গুলোও মৌজা দিয়ে ঢাকা। চোঁখ ছাড়া কিছুই দেখা যায় না। আমি আগ্রহ নিয়ে কাছে গেলাম। আমি জানি পর্দা এই শহরের মানুষ করে না। সবই নিজেদেরকে যতই মুসলিম বলে।

আমি মেয়েটার সাথে কথা বলার জন্য পাশে দাঁড়ালাম। আমি তার নাম জানতে চাইলে সে বলে “হে যুবক তোমরা নিজেরদের চোঁখ সংযত করো।” এটা আল্লাহর কথা। মেয়েটার আর কিছু না বলে বাস আসতেই উঠে গেলো। বাসে তখন আমি আর কিছু বলার সাহস পেলাম না। আমি কোন কিছু না ভেবেই সেই বাসে উঠে বসলাম। এবং মেয়েটার পাশে গিয়ে বসলাম। আমি আর কিছু না বলে চুপ করে বসে রইলাম। মনে মনে ভাবছি সে কখন কোথায় যায় সব দেখবো। বাস ২৫ মিনিট পরেই পরের বাসস্টপে থামলে মেয়েটা নেমে যায়। মেয়েটার সাথে আমিও তখন নেমে গেলাম।

মেয়েটা হাটঁতে হাটঁতে একটা এতিমখানায় যেয়ে পোছালো । আমিও পিছে পিছে গিয়ে দাঁড়ালাম এতিমখানার সামনে কাছে। দেখলাম এতিমখানার গেইটে লেখা… “ফাতমা (রঃ) মহিলা হাফেজীয়া মাদ্রাসা”আমার বুঝতে আর কিছু বাকি নাই মেয়েটা হাফেজ বা হাফেজী পড়ে।
আমি ততখনে সেখানে দাড়িয়ে আছি ।কিছুক্ষণ পর একটা ৪- ৫ বছরের মেয়ে গেইট দিয়ে বের হচ্ছিলো । আমি বাচ্ডাচা মেয়েটাকে ডাক দিয়ে বলি । একটু আগে ভিতরে মহিলাটা গেলো সে কে? বাচ্চা মেয়েটা বলে ওই মহিলাটা মাদ্রাসার শিক্ষক আমাদের পড়ায়।

আমি যা ভাবেছিলাম তাই ঠিক হলো সে এক জন হাফেজ । মাদ্রাসার গেইটের কাছে একটা যে চায়ের ছোট দোকান আছে সেটায় গিয়ে বসলাম।দোকান দার চাচা কে চা দিতে বলে মোবাইলটা হাতে নিতেই দেখি মা আমার ফনে কয়েকটা কল দিছে। তখন আমি মা’কে কল দিয়ে বলি আজকে আসতে দেরি হবে বলে ফোনটা রেখে দিলাম। চায়ের কাপটা নিয়ে চা খেতে লাগলাম। তখন চায়ের দোকানদার বলে… মামা আপনাকে এদিকে নতুন দেখতেছি। আমি বললাম এমনি মামা । তারপর অনেকক্ষণ দকান দার মামা সাথে কথায় বুঝলাম দোকানদার একটু ভালো মানুষ।

আমি তখন দোকানদার মামাকে বলি আপনি কি মাদ্রাসার মহিলা শিক্ষককে জানে কিনা? মামা বলে শিক্ষক দুজন আছে । একজন থাকে সবসময় মাদ্রাসায় থাকে । আরেকজন বিকালে এসে পড়ায় । আমি বলতেছি যে বিকালে পড়ায় তার কথা। দোকানদার বলে ছোটবেলা থেকে মেয়েটাকে দেখছি আমার এই টং দোকানে অনেক সময় খেতে আসতো । এখন বড় হয়ে হাফেজী পড়া শেষ করে এখানে চাকুরী করে।

তার নাম মরিয়ম আক্তার সুমিতা । সবাই সুমিতা বলেই চিনে। মেয়ে টা ছোট বেলা থেকেই এতিমখানায় থাকতো। তার এই দুনিয়ায় কেউ নাই ।দোকানদার আমার দিকে আরো ভালো করে তখন তাকিয়ে বলে….আপনিতো মনে হয় কোন ভালো পরিবারের ছেলে । আমি তখন কিছু না বলেই চায়ের দাম দিয়ে সেখান থেকে চলে আসি। দোকান থেকে বের হয়ে সোজা বাসায় এসে বাইক নিয়ে আবার চলে গেলাম মাদ্রাসার সামনে।

সুমিতা সন্ধ্যা পরই বাসার দিকে যাচ্ছে। তখন আমিও সুমিতার পিছে পিছে গেলাম। সুমিতা বাস থেকে নেমে চলে গেলো বাসায়। সুমিতার বাসা বস্তিতে। আমি সেখানেও সুমিতার সম্পর্কে জানতে চাইলাম। সবাই সুমিতা গুনের কথা বলে শেষ করতে পারে না।কয়েকদিন সুমিতার পিছনে পিছনে ঘুরছি। তখনো তার চেহারা দেখিনি। তবুও তাকে সব কিছুতেই অনুভব করতাম।একদিন মাদ্রাসা পড়িয়ে আসার সময় তার পথ আটকে ধরি।

_ আমি আপনার সাথে কিছু কথা বলতে চাই। যদি অনুমতি দেন!
_ সুমিতা বলে পর পুরুষের সাথে কথা বলা গুনাহের কাজ। তাও আপনি প্রতিদিন এভাবে পিছনে যাওয়া আসা করেন। কিছু বলতে চাইলে আজকে বলেন তাড়াতাড়ি।


_ আমি বললাম আপনাকে ভালবাসি তারমানে ভাববেন না যে খারাপ কিছু। আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই ।আমি আপনার মতো হাফেজ না তবে নামাজ পড়ি, মহান আল্লাহর ইবাদাত করি। কখনো কোন নারীর সাথে প্রেম ভালোবাসা করি নাই। অন্য কোন কিছু বলতে বা জানতে চাই না।

এতিম মেয়ের বাস্তব রোমান
এতিম মেয়ের বাস্তব রোমান্টিক ভালবাসার গল্প কাহিনী

_আমি আপনার নামও জানি না।আমাকে আগে কখনো দেখেননি তারপরও……… বিয়ে করবেন আমায়? নাম না হয় বিয়ের পর জেনে নিয়েন। আমি BSC IN TEXTILE ENGINEERING পাশ করে ফেলবো কিছুদিন পর। বাড়ি গাড়ি সবই আছে আমার ।

_আমি আপনাকে না দেখে. বিয়ে করবো … বিয়ে করে দেখবো আপনাকে ।
আমি সেইদিন বুঝতে পারি সুমিতা আমাকে বিয়ে করতে রাজি । পরেরদিন আমার বাইক আর ল্যাপটপ বিক্রি করে দিয়েছিলাম ৩ লাখের মত।টাকা নিয়ে সুমিতার বাসায় গিয়ে সুমিতাকে বললাম তাকে আজই বিয়ে করবো।

সুমিতা তার ম্যাডামের সাথে কথা বলছে যাদের কাছে বড় হলো। সুমিতাকে কি বলছে আমি শুনিনি। আমি আবা সুমিতা বাসে করে চলে যাই মাদ্রাসায়। সেখানে ম্যাডাম ও সেই দোকানদার মামা তাকেও নিয়ে চলে আসলাম কাজি অফিসে।

আমি আমার দুজন বন্ধুকে আগে থেকেই বলি রাখছি। তাদের বলেছিলাম আমরা ভালবেসে পালিয়ে বিয়ে করতেছি। সুমিতার কাবিনের 25 হাজার টাকা দিলাম। আমার বন্ধু ও কাজী নিজেই অবাক এত কম টাকায় বিয়ে। আমি সুমিতাকে বলেছি এত কম টাকায় কেন সে বললো ভালবাসা থাকলে এক টাকাও সংসার থাকে আর ভালবাসা না থাকলে এক কোটিতেও সংসার থাকবে না। সব কিছুই আল্লাহর হাতে।

সুমিতাকে বিয়ে করে কাজীর সামনেই কাবিনের টাকা বুঝিয়ে দিলাম। সবাই এবার আমার কাজ দেখে অবাক। সুমিতা ও হাসি খুশীতে টাকাটা নিয়ে ম্যাডামকে দিয়ে দেয়। যখন সুমিতা ম্যাডামকে বলে আমাদের এতিমখানায় টাকা দিয়ে দিয়েন এ গুলো। তখন আমার বন্ধুরা শুনে অবাক হয়ে আমাকে বলে এতিমখানা মানে? আমি বলি সুমিতার এই দুনিয়ায় কেউ নাই। বন্ধুরা আমার কাজ দেখে নাক-ছিটকায়।আমি সুমিতাকে নিয়ে বাসায় গেলে।

বাবা-মা সুমিতার বংশ জানতে চায়। তখন সুমিতা এতিম শুনে বের করে দেয় ঘর থেকে। বন্ধুরাও এতিম বলে কাজী অফিস থেকে নাক ছিটকিয়ে চলে যায়, আমার মতো নাকি তারা।যে তারা গরিবের সাথে সম্পর্ক রাখবে। তাদের কথা টাকাওয়ালা মডেলিং মেয়ে হলে হবে।

আমি আর সুমিত সেইদিন চোঁখের পানি ছেড়ে বাসা ছেড়ে চলে যাই সুমিতার বাসায় সেই বস্তিতে। বাসর রাতেই সুমিতারকে প্রথম দেখলাম। যাকে বিয়ে করা, বাড়ি ছাড়া তাকে বাসর রাতের আগে দেখি নাই। সুমিতার কে যতটা সুন্দর হবে ভাবছি তার থেকে হাজার গুন সুন্দর। যেনো একটা পরী।

বাসর রাতের পরেরদিন,,
_ সুমিতা আমি তোমাকে তো বিলাস বহুল বাড়ি গাড়িতে রাখতে পারলাম না।
সুমিতার আমার হাতটা শক্ত করে ধরে বলে,,,,,
আল্লাহ আমাদের দু-মুঠো ভাত খাওয়ালে হবে।

আর আল্লাহর পথে চলতে পারলেই হবে। মনে রাখবেন আল্লাহ চাইলে সব কিছু হতে সময় লাগে না। শুধু দরকার আল্লাহর উপর ভরসা আর হালাল খাওয়ার ইচ্ছে।আমি সেই দিনের সুমিতার কথাটা আজও ভুলি নি । যে আড়াই লাখ টাকা ছিলো তা দিয়ে একটা ছোট মুদি দোকান দেই।

হালাল খাওয়া আর সৎ সাহস নিয়ে জীবন চলানো শুরু করলাম । সুমিতার মাদ্রাসায় পড়ানো বন্ধ করে দেয় বিয়ের পর। সারাক্ষণ বাসায় নামাজ,রোজা আর ইবাদাতে কাটাতো।আমিও সবসময় নামাজ পড়ি আল্লাহর হুকুম মতো সব করি।বিয়ের ২ বছর পরই একটা ছেলে হয়। তার ২ বছর পর ২য় একটা মেয়ে হয়।

১২ বছরে আল্লাহর রহমতে আমার ব্যাবসা অনেক বড় হয়ে যায়। দুটা দোকান দেই বড় মার্কেটে। যাতে লোকদিয়ে কাজ করাই। আরেকটা চাউলের মিল খুলি। একটা বাড়ি করে আমরা নিজেরা থাকি আবার ভাড়াও দেই কয়েকটা রুম। আমার এই সাফল্যের পিছনে সুমিতার হাত। সে সবসময় পাশে থেকে সাহস দিতো। আল্লাহর কাছে দোয়া করতো। তাইতো আজ ঘর ছাড়া ছেলেটার ঘরে যেনো স্বর্গের সুখ বিদ্যমান। আর কোটিপতি।

১২বছর পর আজকেই মা-বাবাকে আনতে যাচ্ছি আমার বাড়িতে। ছোট ভাইটাকে বিয়ে করানো পর নাকি তার বড় লোকের বেডি মা -বাবাকে কখনো ভালো ব্যবহার করে না, অসুস্থ এখন সেবাও করে না। আর সেই আমার দু বন্ধু তাদের নায়িকা মার্কা বউ একজন ডিভোর্স দিয়েছে আরেকজনের নাকি পরকীয়া করে পালিয়েছে।

গাড়ি করে সুমিতা , বাচ্চাদের নিয়ে চলে আসলাম বাবা মার কাছে। তাদেরকে নিয়ে চলে আসি বাসায়। জানি সুমিতা কখনো সেবায় কমতি রাখবে না। একজন নেককার এমন স্ত্রী পেয়ে আমি জীবনের সবচেয়ে দামী জিনিস পেলাম। একজন আদর্শ স্ত্রী পেলাম। যার কারনে আমার কুঁড়ে ঘরেও আনন্দের সীমা ছিলো না। সারা জীবনই থাকবে আল্লাহর কাছে চাই এমন ভালোবাসা, সুখ আমাদের জীবন।

গল্পটা ভাল লাগলে শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দন ধন্যবাদ

উক্তি ও বানী

স্বাস্থ্য ও অভ্যাস

ROMANTIC LOVE STORY

SAD LOVE STORY

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *