রোমান্টিক ভালবাসার গল্প -ভার্সিটি জীবনের প্রেম কাহীনি

রোমান্টিক ভালবাসার গল্প -ভার্সিটি জীবনের প্রেম কাহীনি

রোমান্টিক ভালবাসার গল্প -ভার্সিটি জীবনের প্রেম কাহীনি ,সেদিন উত্তরা ভার্সিটি থেকে মেসে ফিরতেছি। ঠিক সেই সময়ে পিছন থেকে একটা মেয়ের কণ্ঠস্বর ভেসে আসতেছে। আমার নাম ধরে ডাকতেছে আমি ভাবতেছি আমার নামের হয়তো অন্য কাউকে ডাকতেছে তাই মেয়ের ডাকে সাড়া না দিয়ে আমি আমার মেসের দিকে হাটতে লাগলাম। দুই তিন পা হাটতেই মেয়েটা আমার সামনে এসে দাঁড়াল । মেয়েটা দেখতে খুব সুন্দর কিন্তু আমি এই মেয়েটাকে চিনি না। এর আগে দেখছি বলেও মনে হচ্ছে না। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলামঃ

রোমান্টিক ভালবাসার গল্প -ভার্সিটি জীবনের প্রেম কাহীনি

আপনি কি আমাকে ডাকতেছেন? মেয়েটা তার মুখটা ভেংচি দিয়ে বললোঃ আপনি ছাড়া এখানে আর কে আছে ? এখানে কি এই নামে আর কেউ আছে বলে আমার মনে হয় না। আমি মেয়েটির কথা শুনে গাছ থেকে পড়লাম। যাকে চিনি না জানি না সে হঠাৎ করে কোথ থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে ।আমি নরম নরম স্বরে বললামঃ আপনি আমাকে কিভাবে চিনেন? মেয়েটা আমাকে বলে যেভাবেই হোক চিনি কিন্তু আপনাকে বলবো না।

কি ঝামেলারে বাবা আমাকে চিনেন অথচো বলবেন না। সেদিনের মত কথা শেষ করে আমার মেসে আসলাম। রাত ১২ টার দিকে আমার বাটন ফোনে একটা কল আসে। অচেনা একটা নাম্বার থেকে অচেনা নাম্বার দেখে প্রথমে আমি ফোন ধরি নাই। অচেনা নাম্বার থেকে বারবার কল দেওয়াতে বিরক্ত হয়ে আমি ফোনটা ধরলাম।*.

কে আপনি? আমাকে বারবার কেন ফোন দিচ্ছেন ? ফোনের ও পাশ থেকে নরম কন্ঠে বললোঃ আমি। আমি রেগে গিয়ে বললামঃ আমি কে?নাম নাই নাকি আপনার ? এবার মেয়েটি স্বাভাবিক ভাবে বললোঃ ঐ যে আজ রাস্তায় দেখা হয়েছিলো । আমি বললাম রাস্তায় তো আমার অনেক মেয়ের সাথে দেখা হয় আপনি কোন মেয়েটা ?

এই কথা বলার সাথে সাথেই মেয়েটা বাচ্চা পোলাপানের মত কাঁদতে লাগলো। আমিও বুঝে গেছি এটা কোন মেয়ে। কি করবো বুঝতেছিলাম না। আমি ধমক দিয়ে বললামঃ এই মেয়ে বাচ্চা পোলাপানের মত কাঁদতেছেন কেন? আমি ভাবলাম ভাবছি ধমক দিলে হয়তো কান্না থেমে যাবে কিন্তু তা হলো না হলো তার উল্টো । তাই এবার আর ধমক না দিয়ে সুন্দর ভাবে বুঝালামঃ

আচ্ছা আপনি আমার কাছে কি চাইছেন? উত্তরে বললো সে আপনাকে চাই । আমি অবাক হয়ে বললামঃ কি বলেন আপনার মাথা ঠিক আছে ?? না মানে আপনার কণ্ঠের সুন্দ সুন্দর গান শুনতে চাই । আমি মনেমনে বললাম যাক বাবা বাঁচা তো গেলো আমি একটা গান শুনিয়ে বিদায় করে দিই।

আমার একটা গান শুনার পর মেয়েটা আবার বায়না ধরে বসে প্রতি রাতে আমাকে তর গান শুনাতে হবে যতক্ষণ তার ঘুম না আসে ততক্ষণ তাকে গান শুনাতে হবে । আমি অনেক্ষণ সময় চুপ করে ছিলাম ।

মেয়েটা তখন রীতিমত আমাকে থ্রেড দিয়ে বসলো আপনি যদি আমি প্রতি রাতে আমাকে গান না শুনান তাহলে আমি রাস্তাঘাটে আপনাকে জড়িয়ে ধরে বলবে ‘আই লাভ ইউ’ আর হুম কিস ও করবো আমি যথা রীতি ভয় পেয়ে মেয়েটার কথায় রাজি হয়ে গেলাম। আমি ভাবলাম প্রতি রাতে তো একটা গান শুনুয়ে দিবো । আমারই ভালো হবে গানের গলাটার চর্চা হয়ে যাবে

পরেরদিন……

আজকে আমার উত্তরা ভার্সিটি যাওয়ার সময় দেখলাম মেয়েটি ঠিক সেই জায়গাতে দাঁড়িয়ে আছে । আমি আমার কাঁধের থেকে বই এর ব্যাগটা খুলে নিয়ে মুখটা ঢেকে হাটতে শুরু করলাম । কিন্তু আমি তখন মেয়েটার কাছ থেকে বাঁচতে পারলাম না। মেয়েটা আমার পথ আটকে দাঁড়ািয়ে পড়লো ।

তারপর মেয়েটি আমাকে বললোঃ লুকিয়ে লুকিয়ে কই যান? আমি মুখে হালকা একটু হাসি নিয়ে বললামঃ আমার ছাতাটা আজ আনতে ভুলে গেছি তো তাই। মাথায় রোদ লাগছে বলে ব্যাগটা দিয়ে মুখ ঢেকে রাখছিলাম। মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে বললোঃ চলুন আমার কাছে ছাতা আছে আমি আপনাকে আপনার ভার্সিটিতে পর্যন্ত দিয়ে আসি। আমার কি আর করা মেয়েটার কথামত ভার্সিটি পর্যন্ত গেলাম।

মেয়েটা বললোঃ

আমি যে এতদূর পর্যন্ত আপনার মাথায় ছাতা দিয়ে আপনাকে পৌছে দিলাম একটা থ্যাংকস পর্যন্ত দিলেন না কি মানুষ রে বাবা ? আপনি এমন কেন ?? আমি মেয়ে টাকে কোনো কিছু না বলেই আমি চুপচাপ মেয়েটার কথা শুনছিলাম। তারপর আমি একেবারে মেয়েটাকে এক সাথে অনেকগুলা থ্যাংকস দিলাম।

আমি পরেরদিন ভার্সিটি শেষ করে মেসে এসে মেসেঞ্জারে ঢুকতেই । অচিন পাখি নামে একটি আইডি থেকে নতুন একটা SMS রিকুয়েস্ট আসছে। আমি SMS টা চেক করে দেখলাম আইডি টা একটা মেয়ের আইডি। SMS লেখা ছিল আপনার গান গুলা আমাইক হেব্বি। আমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আবার দেখলাম।

এবার আর আমার বুঝতে কিছু বাকি থাকলো না । এইটা ঐ মেয়েরই কাজ। আজকে যদি মেয়েটা ফোন দিলে ইচ্ছেমত ঝাড়ি দিবো যাতে আর জীবনে কোন দিন না ফোন দেয়।

আমি ততক্ষন অপেক্ষা করতে লাগলাম মেয়েটির ফোনের আসার জন্য । কিন্তু রাত ১২ বাজে গেছে অথচ এখনো মেয়েটির ফোন আসলো না আমার ফনে । আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম। আমি তাড়াহুড়ো করে মেসেঞ্জারে ঢুকলাম। দেখলাম মেয়েটার অনলাইন থেকে চলে গেছে। তারপর আমি নিজের থেকে মেয়েটিকে ফোন দিলাম। রোমান্টিক ভালবাসার গল্প -ভার্সিটি জীবনের প্রেম কাহীনি

মেয়েটির ফোন বন্ধ। তখন আমি অনেকটা চিন্তায় পড়ে গেলাম। আমি ভাবতে লাগলাম মেয়েটির কিছু হলো নাকি? আমি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলাম আচ্ছা আমি এই মেয়েটিকে নিয়ে এত ভাবছি কেন ? তারপর সবকিছু বাদ দিয়ে আমি ঘুমাতে গেলাম। কি জানি আমার কিছুতেই ঘুম আসছে না। অনেক চেষ্টার পর হঠাৎ আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠার কারণে নাস্তা না করেই ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

আমি প্রতিদিন যেখানে ঐ মেয়েটির সাথে দেখা হত ঠিক সেখানে দাঁড়িয়ে আমি এদিক ওদিক তাকা তাকি করতেছি । কিন্তু ঐ মেয়েটিকে আর আসতে দেখলাম না। আমি মেয়েটির জন্য সেখানে প্রায় ১ ঘন্টার মত দাঁড়িয়ে ছিলাম মেয়েটি তখনি আসেনি। এদিকে আমার ভার্সিটির সময়ও শেষ।

তাই আর সে দিন ভার্সিটিতে না গিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম। আমার প্রচণ্ড মন খারাপ। সেদিনের পর থেকে প্রতি রাতে মেয়েটি যে টাইমে ফোন দিতো ঠিক সেই টাইমে আমি মোবাইলের স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকি। আমি মেসেঞ্জারে ঢুকে প্রতিদিন মেয়েটার আইডি চেক করি আর মেসেজ রিকুয়েস্ট চেক করি।

কিন্তু ঐমেয়েটিকে আর পাইনি। আমি আজোও সেই মেয়েটির অপেক্ষায় আছি। মেয়েটি যখন আমার সাথে পাগলামো করতো তখন খুব আমর বিরক্ত লাগতো কিন্তু এখন তাকে খুব মিস করছি। যখন সে ছিলো তখন তার মর্ম বুঝিনি এখন চলে গেছে তাই খুব আফসোস করছি। যেকোনো কিছু কাছে থাকলে আমরা তার মর্ম বুঝিনা কিন্তু সেটা চলে গেলে তখন আমরা তাকে খুব মিস করি। রোমান্টিক ভালবাসার গল্প -ভার্সিটি জীবনের প্রেম কাহীনি

গল্প টি কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট জানাবেন।

রোমান্টিক ভালবাসার গল্প …

কষ্টের ভালবাসার গল্প -দেবদাস …

FB Page

Related posts

2 Thoughts to “রোমান্টিক ভালবাসার গল্প -ভার্সিটি জীবনের প্রেম কাহীনি”

  1. […] র্ভাসিটি লাইফের রোমান্টিক ভালবাসার গ… […]

Leave a Comment