অসমাপ্ত ভালোবাসার সম্পর্ক-মা বাবার ডিভোর্স-পার্ট -২

অসমাপ্ত ভালোবাসার সম্পর্ক-মা বাবার ডিভোর্স

অসমাপ্ত ভালোবাসার সম্পর্ক-মা বাবার ডিভোর্স-পার্ট -২ এক দিন আব্বার কল দেখে আম্মু আমাকে ডেকে দেয়, আমি ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে আব্বা আমাকে বলে সামি ফোনটা তোমার মা কে দাও তো ।আমি নিজে থেকেই বলি আব্বা তোমার সাথে মা কথা বলবে না। তখন আব্বা নরম গলায় নরম শুরে বলে সামি লিলি ফোন টা দাও। আমি মার কাছে মোবাইল টা নিয়ে যাই আর বলি মা , আব্বা তোমার সাথে কথা বলতে চাইছে। মা একটা কথাও না বলে মোবাইলটা নিয়ে আব্বা কে বললো, শফিক লিলি বলছি,।

অসমাপ্ত ভালোবাসার সম্পর্ক-মা বাবার ডিভোর্স-পার্ট -২

আমি মার থেকে একটু দূরে দাড়িয়ে ছিলাম। আব্বার কথা মা, শুধু শুনে যাচ্ছিলো, কিছু বলছিলো না, একবার শুধু বলেছিলো হু আমি শুনছি, শেষ কথাটা মার ছিলো,মা বলে, ঠিক আছে তারিফ আমি তোমার মা কে কল দিয়ে বলে দিবো, বলেই কলটা মা কেটে দেয়।আমি রেগে মার কাছে জানতে চাই মা তুমি কেন আব্বার সাথে কথা বললে?

মা হেঁসে বলে সামি শোন, তোমার আব্বার সাথে আমার রাগ,অভিমান বা অন্যকোন ধরনের আবেগের সমপর্ক আর নেই। আমি যদি কল রিসিভ না করতাম ।তাহলে তোমার আব্বার মনে হতো আমি এখনো তার জন্য কষ্ট পাই ! সামি তোমার আব্বা আমার জীবনের আর কোথাও নাই।

আমি দৌড়ে আমার রুমে চলে আসি, আমি তখন অনেক ক্ষন কান্নাকাটি করি। আমি মনে মনে ভাবতাম, আমার আব্বা এসে একদিন আমার মার কাছে মাফ চাবে। তার পর মা -আব্বা কে অনেক বকা দিবে, তার পর আবার আমরা সবাই এক সাথে থাকবো।

আজ আমি আবারও বুঝতে পারছি, আমরা আর কখনো এক পরিবার এ বসবাস করতে পারবো না। আব্বা আমাদের সাজানো সংসারটা নিজের হাতে ভেঙ্গে ফেলেছে যা আর কখনো জোড়া লাগবে না।পরের দিন মা দাদি কে ফন কল দেয় এবং অনেক ক্ষন কথা বলে, এক সময় মা দাদি কে বলে, আম্মা তারিফ আপনাকে নিয়ে টেনশনে আছে,

আপনি নাকি তারিফের ফোন কল রিসিভ করেন না ? মা দাদু কে, আব্বার ‘ কল রিসিভ করার কথা বলে, আর বলে আম্মা আপনি কল রিসিভ না করলে সামির আব্বা আমাকে আবার কল দিবে, এটা আমার ভালো লাগবে না। আপনি কল রিসিভ করে ওর সাথে কথা বলে আপনার যা বলার বলে দিবেন।

দাদি প্রতিদিন একবার করে আমাকে ফোন কল দিয়, কথা বলে। মার সাথে ও কথা বলে। আমারা আগে ছুটির দিনে বেড়াতে যেতাম নানি বাড়িতে এখন খুব বেশি যাওয়া হয় না। নানি বাসায় গেলেই নানি, মামি আর মামা শুধু আমার মা কে নিয়ে আজেবাজে কথা বলতে থাকে, আর আমার সামনেই মা কে বলে,

তুই চাকরি করিস বলে কি হয়েছে সামি কি তোর একার মেয়ে ? তারিফকে বলবি সামির সমস্ত খরচ দিতে, তোর একটা ভবিষ্যৎ নাই ? মেয়ের পেছনে সব টাকা খরচ করলে তোকে কে দেখবে? আর তোর কি এমন এত বয়স? তুই কি সারাজীবন একা থাকবি নাকি? নানি এই কথা বলার সাথে সাথে মা রেগে যায় আর বলে ।,

আম্মা আমার ভুল হয়েছে তোমাদের কাছে আসা, । এর চাইতে বাসায় থাকা ভালো। তখন নানি চুপ হয়ে যায়।আমারও এই সব কথার জন্য নানি বসায় আসতে আর ইচ্ছে হয় না।

তার পরও আসি,কারন আমাদের বেশি কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। মা – আব্বার ডিভোর্সের পরে থেকে আমাদের কে সবাই একটু এড়িয়ে চলে। আর আমার মামীর হাতের রান্না আমার খুব ভালো লাগে। ডিসেম্বর মাসে আমার পরীক্ষা শেষ।

বাসায় একা-একা থাকি মন খারাপ করে। আজ আম্মু রাতে খাবার খাওয়ার সময় আমাকে বলল সামি চলো আমরা কোথাও বেড়াতে যাই। আমি খুশি হয়ে উঠলাম মা বললসামি আমি এক সপ্তাহ ছুটি নিয়েছি বলো তো আমরা কোথায় বেড়াতে যেতে পারি ?

আমি আর আম্মু এক সাথে বসে প্ল্যান করছি কোথায় যাওয়া যায়,চিটাগং, কক্স বাজার, সিলেট,etc মা হঠাৎ করে আমাকে বলল সামি চলো তোমার দাদি বাড়ি গেলে কেমন হয়? আমি মার কথায় অবাক! আমি খুশিতে লাফিয়ে উঠলাম আমি মার গলা জড়িয়ে ধরে শুধু বললাম মা তুমি অনেক অনেক ভালো।

পরের দিন আমি আর মা দাদি’র জন্য আর আমার জন্য শপিং করলাম। তার পরের দিন আমরা দাদি বাড়িতে রওনা হলাম। আমরা কিন্তু কেউ দাদি কে জানাই নাই দাদি বাড়িতে যাওয়ার কথা।

আমি আর মা যখন দাদি বাড়ির গেইটে রিক্সা থেকে নামছি, তখন আমাদের গ্রামের এক চাচু আমাদের দেখতে পায়, চাচু এসেই মার ব্যাগ রিক্সা থেকে নামিয়ে গেইটে ধুমধাম ধাক্কা পর ধাক্কা দিতে লাগলো আর দাদি কে ডাকতে থাকলো বাহির থেকেই, বলতে লাগলো চাচী গেইট খোলো তাড়াতাড়ি।

মা আর আমি চাচুর পেছনে দাঁড়িয়ে আছি। দাদি গেইট খুলে চাচু কে কিছু বলতে গিয়েই আমাদের দেখলো। দাদি শুধু আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো আর বলল, সামি, আমি দৌড়ে দাদি’কে ধরে ফেললাম।আমার মনে হচ্ছে দাদি কাঁপতেছে এখনই পড়ে যাবে।আমার দাদি খুবই শক্ত মনের মানুষ।

আজ সেই দাদিও একটু পর পর চোখ মুছছে আর বলছে, লিলি মা, তুমি আমার মেয়ে না, তুমি আসলেই আমার মা, একমাত্র মা’ই বুঝতে পারে সন্তান কি চায়? আজ তুমি আমার সব কষ্ট দূর করে দিলে।আমার জীবনে আর কোন কষ্ট নাই। আমার মা আমাকে ত্যগ করে নাই।


ধন্যবাদ সকলকে গল্পটা যদি ভাল লাগে তা হলে শেয়ার করুন

Romantic Love SMS

Romantic Love Story

Related posts

Leave a Comment